‘বাড়ির ঘাটেই হাসপাতাল বাধা, আগে কখনো দেখিনি’
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি : মানুষ হাসপাতালে যায় চিকিৎসা নিতে। কিš‘ হাসপাতাল রোগীর বাড়ির ঘাটে আসে তা আগে কখনও দেখিনি। এই কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের বালিগাঁও গ্রামের সুফিয়া বেগম। শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে ‘জীবন তরীথতে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। কালীগঞ্জ পৌরসভার দড়িসোম এলাকায় খাদ্য গুদামসংলগ্ন ঘাটে নোঙর করেছে এ ভাসমান হাসপাতাল। সেখানে আসা একাধিক রোগী জানান, কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার আশায় তারা এ হাসপাতালে এসেছেন।
এই ভাসমান হাসপাতালে শুধু এলেকার রোগীই চিকিৎসা নেয়না। দূর থেকেও চিকিৎসা নিতে বহু রোগী আসেন। পার্শবর্তী উপজেলা পলাশ থেকেও অসুস্থরা এই ভাসমান হাসপাতালে ভিড় জমান। ভাসমান হাসপাতালের প্রশাসক একেএম শহিদুল হক জানান, প্রতিদিন এখানে ২০০ থেকে ২২৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছন। গত ১০ মে থেকে এখানে জীবন তরীর কার্যক্রম শুরু হয়। এ ঘাটে এক থেকে দেড় বছর অবস্থান করার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
শহিদুল হক বলেন, এ ভাসমান হাসপাতালে নদীর পার এলাকায় বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র রোগীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। নাক, কান, গলা ও চক্ষু রোগের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং সহায়ক সামগ্রীর ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থোপেডিক চিকিৎসা, ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া হয়। নদীসংলগ্ন প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসার জন্য ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হাসপাতালটি চালু করে। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করাতে এসেছেন পলাশের ঘোড়াশালের সবুজ আলী। তিনি সমকালকে বলেন, আমার এক চোখে ছানি পড়েছে, আরেকটিতে কম দেখি। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি, পুরোপুরি ভালো হয়নি। আজ এখানে এসে চিকিৎসা নিলাম। একটি চোখে অস্ত্রোপচার করতে হবে, এখানে তারা করে দেবে বলেছে। ভাসমান এ হাসপাতালে সরকারি ছুটি ও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালটি ১২ শয্যার। এতে তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন।
তাদের মধ্যে একজন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ, একজন চক্ষু চিকিৎসক ও একজন অর্থোপেডিকসের। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞ সার্জন দিয়ে অস্ত্রোপচার এবং হাড় জোড়া, পঙ্গু, জন্মগত, ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসা, প্লাস্টিক সার্জারিসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তিনজন নার্স, দুজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩০ জন জনবল আছে হাসপাতালটিতে।


আপনার মতামত লিখুন
Array