সার বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৬নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিসিআইসি সারের ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে টিএসপি (বাংলাদেশী ও আমদানিকৃত) এবং এমওপি সার বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব এবং কালোবাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুটুনী হাটের ডিলার, এমএস ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর সোহরাফ আলীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তাঁর ভাজতি জামাতা, মোঃ শামীম। একই সাথে, কাহারোল বাজারের তোহিদ এন্টারপ্রাইজেরও অর্ধেক ডিলারশিপের সার বিতরণের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়।
মোঃ শামীম তাঁর বাড়ি দশ মাইল হওয়ায় মুটুনী হাটের দোকানে নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকেন না। জুলাই মাসের বরাদ্দকৃত ৩৬৬ বস্তা বাংলাদেশী টিএসপি এবং ২৮০ বস্তা আমদানিকৃত টিএসপি সার মুটুনী হাটে না রেখে তিনি দশ মাইলের নিজস্ব গোডাউনে রাখেন। পরবর্তীতে, সামান্য পরিমাণ সার (যেমন ১৩ জুলাই ৮০ বস্তা এবং ১৬ জুলাই ৬০-৭০ বস্তা) মুটুনী হাটের গোডাউনে আনা হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শামীম নিয়মিতভাবে বাইরের দোকানদারদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১৩৫০ টাকা হলেও, কৃষকদের তা ২১০০-২২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর ফলে, লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, রামচন্দ্রপুর ব্লকের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল আহমেদ ডিলারের এই অনিয়মের সাথে জড়িত। তিনি সমগ্র সার মুটুনী হাটে জমা হয়েছে মর্মে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছিলেন।
ঈশানপুর ব্লকের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল আহমেদ-এর বিরুদ্ধেও কৃষকদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে এই এলাকায় যোগদানের পর থেকে তিনি কৃষকদের কৃষি বিষয়ে তেমন কোনো পরামর্শ দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।কৃষকদের দাবি, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল আহমেদ তাঁর পছন্দসই ব্যক্তিদের প্রদর্শনী ও প্রণোদনার উপকরণ দেন। ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই সারের জন্য মুটুনী হাটে যাওয়া এক কৃষককে তিনি জানান, আমি কি দোকানদার যে যখন বলবেন তখন সার দিবো? তিনি রামচন্দ্রপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় না করেই নিজে সকল উপকরণ বিতরণ করেন। একাধিক কৃষকের অভিযোগ, যাদের নিজস্ব জমি নেই, তারা সার পাচ্ছে, কিন্তু সাত বিঘা জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও সহিদুল ইসলাম নন-ইউরিয়া সার পাননি।
কৃষকেরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল আহমেদ ঈশানপুর ব্লক থেকে অন্য কোথাও বদলি করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যপারে কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন
Array